
কলকাতার যিশু, উলঙ্গ রাজা, জোড়া ফুল, ইত্যাদি কবিতাগুলি পড়েননি কাব্যপ্রেমী এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া বিরল। জনপ্রিয় এই কবি তাঁর জীবদ্দশাতেই আজ কিংবদন্তি। কবিকে এবারের বইমেলায় শ্রদ্ধার সঙ্গে সংবর্ধনা জানানো হলো ঐতিহ্যশালী প্রকাশনা সংস্থা দেব সাহিত্য কুটিরের উদ্যোগে, মেলারই এসবিআই অডিটোরিয়ামে। উপলক্ষটা ছোটদের জনপ্রিয় পত্রিকা শুকতারা'র সত্তর বর্ষপূর্তি উদযাপণ। শুরুতেই সকলকে স্বাগত জানান সংস্থার বর্তমান কর্ণধার রুপা মজুমদার।

প্রকাশনা সংস্থার মুদ্রক তথা তাঁর শ্বশুরমশায় বরুনচন্দ্র মজুমদারের অনুমতি ও আশীর্বাদ নিয়ে রুপা অনুষ্ঠানের সুচনা করেন। তাঁর কথার সূত্র ধরে জানা গেল, এক কালে বাড়িতেই ঘটত লেখক-পাঠক সমাবেশ। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজার প্রাক্কালে বর্তমানে এই সমাবেশ হলেও সেখানে পাঠকরা উপস্থিত থাকেন না। সেকথা ভেবেই বইমেলায় এই উদ্যোগ।

আলোচ্য অনুষ্ঠানে লেখকদের সঙ্গে পাঠকরাও উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চ আলো করে বসেছিলেন, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কথাসাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহ, সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়, কবি সুবোধ সরকার, মেয়র পরিষদ দেবাশীষ কুমার প্রমুখ। এঁদের হাতে শুকতারার সত্তর বর্ষপূর্তির বিশেষ ফলক তুলে দেন সংস্থার নবীন প্রতিনিধি রৌনক মজুমদার । এরপর দেবাশিস কুমার সংবর্ধিত কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী হাতে তুলে দিলেন পুষ্পস্তবক, উত্তরীয়, বাঁধানো মানপত্র ও ফলক ।প্রতিক্রিয়ায় নীরেন্দ্রনাথ রাখলেন তাঁর আপলুত বক্ততা। পরে দেবাশিস কুমার তাঁর বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন যে, আজকের এই সন্ধ্যা কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সন্ধ্যা। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে তিনিও সম্মানিত বোধ করছেন।

একই দিনে সংস্থার পক্ষে প্রকাশিত হল বেশ কয়েকটি বই-- 'সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় অমনিবাস', বুদ্ধদেব গুহর 'ছেঁড়া ক্যানভাস', কাবেরী রায়চৌধুরীর 'সবুজ চোখ' রূপক সাহার 'কালকেতু সমগ্র', হেমেন্দ্রকুমার রায়ের জয়ন্ত-মানিক সমগ্র', বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'অলৌকিক ও ভৌতিক গল্প', নির্বেদ রায়ের 'সাভোর নরখাদক' , হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত-এর 'এবং ভয়ঙ্কর ', নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়ের 'ডবল রহস্য',শুকতারার বাস্তব কল্পবিজ্ঞান ও রহস্য গল্প, নবকল্লোলের পঞ্চকন্যা ইত্যাদি বইগুলি।
[:]